রাজনগরে ছাত্রলীগ নেতার বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর



নিজস্ব প্রতিবেদক::

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমানের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রামভদ্রপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সাদিকুর রহমান দীর্ঘ

দিন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রামভদ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ তেরা মিয়ার ছেলে। তেরা মিয়া টেংরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।

সোমবার আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও তাদের বাড়ীতে হামলার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনগর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই এসব হামলা হয়। টেংরা ইউনিয়নের রামভদ্রপুর গ্রামের উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমানের বাড়ীতে হামলা হয়। এসময় তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। বাড়িতে এসে সাদিকের উপর হামলা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। হামলায় সাদিকের চোখের পাশে গুরুত্বর জখম হয়। এসময় পরিবারের লোকেরা বাঁধা দিলে সাদিকের বাবা মোহাম্মদ তেরা মিয়া ও বড় ভাই জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ অপু মিয়ার উপর হামলা করা হলে তারাও গুরুত্বর আহত হন। পরে তাদেরকে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে রাজনগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হামলার ঘটনায় সাদিকের জখমের স্থানে ৬টি সেলাই লাগে । দায়ের কোপে তার বাবার শরীরে ১০টি সেলাই লাগে। এছাড়া তার ভাইয়ের মাথায় ৮টি সেলাই লাগে।

স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে টেংরা ইউনিয়ন সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিন মিয়াসহ বিএনপি নেতা রাজীব তরফদার, জামাল মিয়া, সেলিম আহমদ সহ ১৫-২০ জনের নেতৃত্বে হামলা হয়। হামলার সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র সহ চায়নিজ কুড়াল, রামদা সহ বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র ছিল। ভয়ে এলাকার লোকজন বাঁধা দিতে যায়নি।

সাদিকের বাবা মোহাম্মদ তেরা মিয়া জানান, বিকেলে হঠাৎ করে বিএনপি নেতা মতিন মিয়ার নেতৃত্বে আমাদের বাড়ীতে হামলা হয়। তারা এসে আমার ছেলে সাদিককে খুঁজতে থাকে। এবং তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় তারা বাড়ীতে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর শুরু করে। আমরা তাতে বাঁধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা শুরু করে। হামলায় আমরা গুরুত্বর আহত হই। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর জখম করার পর বাড়ীতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, সাদিকুর রহমান সহ অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের পরিবারের তিনজনকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এধরণের অনেক রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন তাদের সবাইকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। তবে তাদের জখম গুরুত্বর ছিল।