ফুলতলা ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে ভাবুক তরুণ প্রজন্ম, জানুক বরাদ্দ ও সম্ভাবনার হিসাব

ফুলতলা ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে ভাবুক তরুণ প্রজন্ম, জানুক বরাদ্দ ও সম্ভাবনার হিসাব


হোসাইন রুমেল::

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ১৭টি গ্রাম ও ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি বরাদ্দ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের জানার আগ্রহ থাকা জরুরি। একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা, খেলাধুলা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নানা দিক।

গত পাঁচ বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন কোন খাতে সরকারি বরাদ্দের সুযোগ ছিল, কী ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে এসব বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন। রাস্তা, কালভার্ট, টিউবওয়েল ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ বিতরণ, সার-চাল সহায়তা, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রায় ২৮.১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ফুলতলা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন সম্ভাবনা এক রকম নয়। কোথাও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন, কোথাও কৃষকদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশন, কিংবা খেলার মাঠের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নও ইউনিয়নের সামগ্রিক অগ্রগতির অংশ।

তাই ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে হলে শুধু কী হয়েছে, তা জানলেই হবে না কোন খাতে কী ধরনের বরাদ্দ পাওয়া যায়, কীভাবে প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে কোন কাজগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, সেটিও জানতে হবে। সরকারি বরাদ্দের উৎস, প্রকল্পের ধরন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে তরুণেরা নিজেদের এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাবনা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা মানেই কাউকে সমর্থন বা বিরোধিতা করা নয়। বরং একটি ইউনিয়নকে আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আলোচনা না করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, জনসেবার মান এবং এলাকার দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ফুলতলা ইউনিয়নের তরুণ ও যুবসমাজের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে জানা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের উন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, তা নিয়ে ভাবা। কারণ একটি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা যত বেশি বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব হবে, সেই এলাকার ভবিষ্যৎও তত বেশি সম্ভাবনাময় হবে।

আগামী পাঁচ বছরে ফুলতলা ইউনিয়নের জন্য কেমন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন, কোন ওয়ার্ডে কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে এসব প্রশ্ন নিয়ে তরুণদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা তৈরি হওয়া জরুরি।

ফুলতলা ইউনিয়নের উন্নয়ন হোক তথ্য, পরিকল্পনা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং একটি সুন্দর ইউনিয়ন গড়ার চিন্তায় তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণই হতে পারে আগামীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

লেখক: মোজো রিপোর্টার