এমপির দরবারে গিয়েই জানাতে হবে ঈদের শুভেচ্ছা?

এমপির দরবারে গিয়েই জানাতে হবে ঈদের শুভেচ্ছা?

সাইফুল্লাহ হাসান::

ঈদ মানেই আনন্দ, সৌহার্দ্য আর মানুষের কাছে যাওয়ার উৎসব। ধনী-গরিব, নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, সবাই এই দিনে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের খোঁজ নেবে, এটাই তো আমাদের সংস্কৃতি ও প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা প্রায়ই ভিন্ন এক চিত্র দেখি।


বিশেষ করে আমাদের অঞ্চলে ঈদ এলেই দেখা যায়, নির্বাচিত এমপি, চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীদের ভিড় জমে যায়। যেন জনগণই ছুটে যাবে জনপ্রতিনিধির দরবারে। এটাই কি হওয়া উচিত?


একজন জনপ্রতিনিধি তো মূলত জনগণের প্রতিনিধি। সংসদ সদস্যের কথাই বলি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে যান, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পান, নেতৃত্বের আসনে বসেন। তাহলে ঈদের মতো একটি উৎসবে কেন তিনি নিজে মানুষের কাছে যাবেন না? কেন আশপাশের গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করবেন না?


অথচ নির্বাচন এলেই আমরা সম্পূর্ণ উল্টো দৃশ্য দেখি। তখন ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া হয়, কুশল বিনিময় হয়, রাস্তা দিয়ে হেঁটে গণসংযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষের সাথে ছবি তোলা হয়। তখন জনগণের দরজায় যেতে কোনো সংকোচ থাকে না। কিন্তু নির্বাচনের পরে সেই সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো হয়ে যায়। জনগণকে যেতে হয় নেতার দরজায়, এমপির দরজার।


আমরা এখনো এমন এক সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হতে পারিনি, যেখানে জনপ্রতিনিধিকে অনেক সময় “সেবক” নয়, বরং “ক্ষমতার কেন্দ্র” হিসেবে দেখা হয়। ফলে সাধারণ মানুষও মনে করেন, ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে হলে নেতার বাড়িতে হাজির হওয়াটাই স্বাভাবিক।


কিন্তু এই সংস্কৃতি বদলানো প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধির কাজ শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়; বরং নির্বাচনের পরেও মানুষের সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুভূতির অংশ হওয়া। ঈদে যদি একজন এমপি নিজেই কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মানুষের খোঁজ নিতেন, প্রবীণদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন, শিশুদের কাছাকাছি যেতেন, তাহলে সেটি মানুষের হৃদয়ে অনেক বড় জায়গা করে নিত। মানুষও মনে রাখতো, সুখ দুখের কথা নির্দেধায় বলতে পারতো। 


কিন্তু এই সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের দ্বারে যাওয়া নয়; নির্বাচনের পরেও মানুষের সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে থাকা। ঈদের মতো আনন্দের সময়ে যদি একজন এমপি নিজেই গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে মানুষের খোঁজ নিতেন, প্রবীণদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন, শিশুদের কাছে যেতেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন, তাহলে সেটি মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিত। মানুষও তাকে আপন ভাবত, নিজেদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার কথাগুলো নির্দ্বিধায় বলতে পারত।


লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক


জুড়ীরসময়/ডেস্ক/হোসাইন