আব্দুল্লাহ জহুরি::
মে দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে, শহীদ ভগৎ সিং বিশ্বাস করতেন স্রেফ রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেলেই সকল সমস্যা অবসান হচ্ছে না৷ যদি ব্রিটিশ শাসন শেষ হলেও সমাজে ধনী-গরিব বৈষম্য, শ্রমিকের শোষণ, জমিদারি বা পুঁজিবাদী দমন ঠিকই থেকে যায় তাহলে সেই স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ। এ বিষয়ে তিনি ক্লিন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন— রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সামাজিক ন্যায়বিচার কঠিন।আবার সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ।
এটা আসলে উপনিবেশবিরোধী লড়াই আর শ্রেণি সংগ্রামকে একসাথে দেখায়। এই পোষ্ট-মর্ডান সময়ে এসেও হলফ করে বলা যায়, শ্রমজীবী মানুষের সব অধিকার আজও আদায় হয়নি। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কাজের নিশ্চয়তা এসব এখনো অনেকের কাছে দূরের স্বপ্ন। উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, গ্লোবাল অর্থনীতি, এসব মোটা শব্দের আড়ালে শ্রমিকের রূঢ় বাস্তবতা আড়াল হয়েই আছে।
আমাদেরই ধরুন, আমরা ক্রমশ জুলাই থেকে পিছিয়ে আরও একটি কিংবা কয়েকয়ি জুলাই কে আমন্ত্রণ জানচ্ছি। আক্ষরিক অর্থেই জুলাই ছিলো বৈষম্য দূরীকরণের আন্দোলন।
মে দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও ৮ ঘন্টার কাজের নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আদৌতে তা কতটুকু বাস্তবিক, শ্রমিক নিপিড়নের খবর আসে প্রায় প্রতিনিয়ত। এই কদিন আগেও সোস্যাল সাইটগুলোতে ছড়িয়ে যায়, এক গার্মেন্ট কর্মী সকাল থেকে কাজ করে ভাত খাওয়ার ছুটি চাইলে সংশ্লিষ্টকর্তা খারাপ আচরণ করেন ৷ শ্রমিকদের রক্তের লম্বা ইতিহাস পিছনে রেখে আমরা শিকল পরা, আমাদের শিকল দেখা যায় না যা আমাদের হাড়ের ভিতরেই বাজে।
লেখক: আব্দুল্লাহ জহুরি, সংস্কৃতিকর্মী
জুড়ীরসময়/ডেস্ক/হোসাইন
