নিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একান্নবর্তী পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেট এর সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামে প্রায় ৮০ বছর ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এ-সময় তিনি বলেন, আট দশক ধরে আপনারা যে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। আপনাদের এই ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে। একান্নবর্তী পরিবারের এই দৃষ্টান্ত দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবনযাপন করছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন সহাবস্থান সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে বলে। আজকের এই স্মৃতি আমার আজীবন মনে থাকবে। আপনাদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত হলাম।
সাক্ষাৎকালে তিনি পরিবারের সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের পারিবারিক ইতিহাস, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত হন।
সাক্ষাৎকালে পরিবারের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ সদস্য সোহাগী রুদ্রপাল, শোভা রুদ্রপাল বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন সিলেটের সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, ধামাই চা-বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ, স্থানীয় বিএনপির নেতা এমদাদুল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দিবাকর দাস, ধামাই চা-বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল।
স্থানীয়রা জানান, বিনন্দপুর গ্রামের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। তাদের এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জুড়ীরসময়/ডেস্ক/সাইফ
