বিশেষ প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (০৭ জুলাই) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মাস্টার আব্দুল বারীর ছেলে রাকিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল জসিম উদ্দিনকে জোরপূর্বক কলেজের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। এসময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করাসহ এবং ভবিষ্যতে সংগঠনমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তবে হামলার সময় কলেজ প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
কুলাউড়া সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা মাঝে মাঝে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এই ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এঘটনায় আহত জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি নিয়মিতভাবে ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে তারা আমাকে ঘিরে ফেলে এবং একটি ফাঁকা কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমাকে হুমকি দেওয়া হয় যেন আমি আর কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত না থাকি। আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিন আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”