নিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আগামী ৯ মার্চ আসছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী। এ নিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তূমুল প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাহেরী ‘ঢেলে দেই’ বক্তা হিসেবে দেশজুড়ে আলোচিত।
জানা যায়, আগামী ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) বাদ যোহর রাহে মদিনা ইসলামী সোসাইটির আয়োজনে বিশ্বনাথপুর জামে মসজিদ মাঠে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার। এটি রাহে মদিনার ১২তম ওয়াজ মাহফিল।
এই মাহফিলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ উপজেলার তৌহিদী জনতার মধ্যে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোহাম্মদ মামুন মুন্না নামের একজন তাহেরীর ছবি শেয়ার করে বলেন, এই ডি জে বন্ডকে প্রানের জুড়ীতে না আনার অনুরোধ করছি। ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য বন্ড যথেষ্ট, সুতরাং তাকে বয়কট করুন। এছাড়াও আরও অনেককেই মন্তব্য করতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালামীযের সাবেক এক নেতা জানান, ঈমান বিধ্বংসী এরকম বক্তাদের বয়কট করা উচিত। মানুষ জমানোর জন্য মাহফিল করে ফায়দা হবে না। হক্কানী উলামায়ে কেরামদের এনে ওয়াজ মাহফিল করালে সেটিই যথপযুক্ত হবে।
স্থানীয় সংগঠক আশরাফুজ্জামান রিশাদ জুড়ীর সময়কে বলেন, বর্তমান সময়ে কিছু বিতর্কিত বক্তা, যারা কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যার নামে অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন এমনকি ঈমান বিধ্বংসী কথাবার্তা বলে নিজে কুফুরী করা সহ মানুষকে তা শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, এমন কুফুরী মতবাদে বিশ্বাসীদের একজন গিয়াসুদ্দিন তাহেরি। যিনি জুড়ীতে আসবেন বলে শুনা যাচ্ছে, এমন কুফুরী মতবাদে বিশ্বাসী এবং ঈমান বিধ্বংসী আলেম যাতে জুড়ীতে আসতে না পারেন সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার তাফসির বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা সাজেদুল ইসলাম বলেন, তাহেরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সরাসরি ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি যদি তাওবা এর মাধ্যমে তার অবস্থান পরিবর্তন করে ফিরে আসেন তাহলে আমরা তাকে বুকে জড়িয়ে নেবো। কেননা, আমাদের শত্রুতা ও ভালোবাসা সবই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
এ বিষয়ে রাহে মদিনা ইসলামী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত জুড়ীর সময়কে জানান, ওয়াজ মাহফিল হবে। কিন্তু এই সপ্তাহখানেক ধরে তাহেরীর একটি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে শুনতেছি। তবে এটির বাস্তবতা কতটুকু আমরা জানি না। আমরা চাইনা ঐতিহ্যবাহী এই মাহফিল নিয়ে জুড়ীতে বিতর্ক তৈরী হোক।
তিনি বলেন, তাহেরী সাহেবকে জানিয়েছি যে উনার কারনে জুড়ীবাসীর যাতে কোন বদনাম না হয় । কোনো সমস্যা হলে আমরা তাকে বাদ দিয়ে দেব।
সার্বিক বিষয়ে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী জুড়ীর সময়কে জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যানকে অবগত করেছি। ওয়াজকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় এরকম কিছু করা যাবে না।
জুড়ীরসময়/ডেস্ক/এস
