আবিদ হোসাইন::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার - ১ (জুড়ী-বড়লেখা) সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। দিন দিন বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার তৎপরতা। উঠান বৈঠক, গণমিছিল, মাইকিং ও ঘরে ঘরে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।
এই আসনে নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল হোসাইন (কাপ-পিরিচ), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের মো. আব্দুন নুর (ট্রাক) গণফ্রন্টের মো. শরিফুল ইসলাম (মাছ)।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের উপস্থিতি। কোথাও উঠান বৈঠকে স্থানীয় সমস্যার কথা শুনছেন প্রার্থীরা, আবার কোথাও ছোট-বড় গণমিছিলের মাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরছেন তারা। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চা-দোকান, বাজার ও সামাজিক আড্ডায় নির্বাচন ও প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ভোটাররা এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বললে জানা যায়, এই এলাকায় ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে গুঞ্জন, কেউ বলছে এবার এই আসনে ধানের শীষের বিজয়লাব করবে আবার ভোটাররা বলছে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকানো সম্ভব হবে না আর কোনো প্রার্থীর।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি-না, তা নজরদারিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে কিছু কিছু এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে আল ইসলাহ মনোনীত প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমেদ কে। আবার নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে এই আসনে তুমূল সমালোচনায় জাতীর পার্টির মনোনীত প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ। দেখা যায় কখনো তিনি বিভিন্ন এলাকাকে বলছেন মদিনা শরীফ। আবার জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলামকে শাহজালাল এবং শাহ পরাণ দাবি করছেন। এ নিয়ে ভোটাররা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাচ্ছেন প্রতিবাদ।
তরুণ চিন্তাবিদ আশরাফুজ্জামন রিশাদ বলেন, রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান আর অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ এখন এক নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের অপেক্ষায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ, যার ইতিবাচক প্রভাব মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনেও বেশ স্পষ্ট। এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং এটি দেশের মানুষের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। চা-বাগান অধ্যুষিত জুড়ী-বড়লেখা আসনে অতীতে নানা সমীকরণ দেখা গেলেও, এবার ভোটের প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে তরুণ ও জেন-জি ভোটাররা। নতুন প্রজন্মের ভোট টানতে সকল রাজনৈতিক দল এখন মরিয়া। অন্যদিকে, বিগত আমলের ক্ষমতাসীন দল মাঠে না থাকলেও তাদের ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে অনেক প্রার্থী পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এমন এক সন্ধিক্ষণে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। একটি ভয়হীন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, যা আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলাকে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করবে। দিনশেষে ভোট প্রতিটি নাগরিকের কাছে এক পবিত্র আমানত। আশা করি, আপামর জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একজন যোগ্য ও জনবান্ধব প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
জুড়ীরসময়/ডেস্ক/সাইফ
